লন্ডন, মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬

তাহসিফ সাউরির মৃত্যুতে নতুন মোড়, মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসতে পারে অজানা তথ্য

প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর, ২০২৬ ইং
অনলাইন সংস্করণ

সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। মৃত্যুর আগে তাঁর সঙ্গে কারা ছিলেন, কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন এবং শেষ মুহূর্তে কী ঘটেছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্তের পরিধি বাড়াচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরই মধ্যে মামলায় গ্রেপ্তার আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ ও এক তরুণীকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পরিকল্পনা নিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, তাহসিফের মৃত্যুর আগে তাঁর সঙ্গে দীপের যোগাযোগ ও চলাফেরার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। একই রাতে উত্তরার বিভিন্ন স্থানে তাহসিফের সঙ্গে এক তরুণীর উপস্থিতির তথ্যও সামনে এসেছে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে ওই তরুণীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালত তাঁর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে দীপকেও চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে দীপের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে তরুণীর বক্তব্য এবং প্রযুক্তিগত আলামত মিলিয়ে দেখা। ঘটনার রাতে কে কোথায় ছিলেন, কার সঙ্গে কখন যোগাযোগ হয়েছিল এবং কোন পরিস্থিতিতে তাহসিফের সঙ্গে তাঁদের শেষ দেখা—এসব বিষয় পরিষ্কার করার চেষ্টা চলছে।

তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ঘটনার সময়সীমা নির্ধারণ। বিশেষ করে উত্তরার রেস্তোরাঁ থেকে বের হওয়ার পর তাহসিফের গতিবিধি, টঙ্গীর দিকে যাওয়ার কারণ এবং পরবর্তী সময়ে তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে অনুসন্ধান চলছে।

তাহসিফের মোটরসাইকেল টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে উদ্ধারের বিষয়টিও তদন্তে নতুন গুরুত্ব পেয়েছে। ওই এলাকায় তাহসিফ ও দীপ কেন গিয়েছিলেন, সেখানে তাঁদের সঙ্গে অন্য কারও দেখা হয়েছিল কি না এবং পরবর্তী সময়ে তাঁদের মধ্যে কী ঘটেছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

এ ছাড়া দীপের দেওয়া কিছু তথ্যের সঙ্গে তদন্তে পাওয়া অন্যান্য উপাদানের অসংগতি রয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে তাঁর বক্তব্য যাচাইয়ের পাশাপাশি ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের তথ্য এবং অন্যান্য ফরেনসিক আলামত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

এই মামলায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ। তাঁকে কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, সেটি নিশ্চিত করতে চিকিৎসা ও ফরেনসিক প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে মৃত্যুর আগে তাঁর সঙ্গে কারও বিরোধ, কোনো ধরনের চাপ কিংবা অন্য কোনো ঘটনার যোগসূত্র ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।