রাজধানীর মিরপুর-১ ও মিরপুর-১০ এলাকার ফুটপাতে আর হকার বসতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। তবে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিকল্প স্থানে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। আজ ডিএনসিসির সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় হকারদের পুনর্বাসনের দাবিতে প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।
বৈঠকে ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, মিরপুর-১, মিরপুর-১০ ও উত্তরা এলাকায় হকারদের জন্য বিকল্প স্থান খোঁজা হচ্ছে। পাশাপাশি হকারদের পুনর্বাসনে হলিডে মার্কেট চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। সেখানে ৩০০ থেকে ৫০০টি দোকান বসানোর ব্যবস্থা করা গেলে ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়বে এবং ব্যবসায়ীরাও ভালোভাবে বেচাকেনা করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, বিকল্প স্থানে দোকানগুলো নিজস্ব কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হবে। সেখানে কোনো চৌকি বসানোর অনুমতি দেওয়া হবে না।
ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রশাসক বলেন, অবৈধ স্থাপনা ও ফুটপাত দখলের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। কিছু সিন্ডিকেট ও হকার ফুটপাত ছাড়িয়ে সড়কের অংশও দখল করে রেখেছিলেন। ফলে বাধ্য হয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালাতে হয়েছে। অভিযানের পর সাধারণ মানুষ আবারও ফুটপাত ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মিরপুর-১ ও মিরপুর-১০ এলাকার ফুটপাত আর হকারদের দখলে যেতে দেওয়া হবে না। তবে আগে যারা সেখানে ব্যবসা করতেন, তাদের বিকল্প স্থানে পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হবে।
বৈঠকে হকার প্রতিনিধি ও ডিএনসিসি প্রশাসক উভয় পক্ষই হকারদের কারণে সৃষ্ট সমস্যা মোকাবিলা এবং পুরোনো হকারদের পুনর্বাসনে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করার বিষয়ে একমত হন। এ সময় পরস্পরের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস বজায় রেখে সমস্যা সমাধানের অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তারা। সাক্ষাৎকালে গুলশান জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. রুহুল কবির, গুলশান ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) পুলিশের অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
সুত্রঃ বাসস


