দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়নের চুক্তি করেছে বাংলাদেশ সরকার ও ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইএসডিবি) গ্রুপ।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং আইএসডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসেরের উপস্থিতিতে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মিজানুর রহমান এবং আইএসডিবি গ্রুপের পক্ষে সংস্থাটির ডিরেক্টর জেনারেল (কান্ট্রি প্রোগ্রামস) আনাসি আইসামি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে বছরে অতিরিক্ত ৩০ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধনের সক্ষমতা তৈরি হবে। এর ফলে দেশের পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের মোট চাহিদার প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের জ্বালানি খাত দীর্ঘদিন ধরেই আমদানিনির্ভর। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার এবং আমদানি ব্যয়ের ওঠানামা দেশের অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে। দেশীয় পরিশোধন সক্ষমতা বাড়ানো গেলে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ইস্টার্ন রিফাইনারির সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে পরিবহন, শিল্প, বিদ্যুৎ ও কৃষিসহ অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে জ্বালানি সরবরাহ আরও স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সংকট বা আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার সময় দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থায় একটি অতিরিক্ত সুরক্ষা তৈরি হতে পারে।
তবে প্রকল্পের অর্থনৈতিক সুফল নিশ্চিত করতে বাস্তবায়নের সময়সীমা, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, প্রযুক্তির কার্যকারিতা এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ হবে। বড় অঙ্কের অর্থায়নের এই প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়িত না হলে কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে বিলম্ব হতে পারে।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন আইএসডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসের। এ সময় বাংলাদেশ ও আইএসডিবির উন্নয়ন অংশীদারত্ব আরও জোরদার করা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সামগ্রিকভাবে, ইস্টার্ন রিফাইনারির এই সম্প্রসারণ প্রকল্পকে বাংলাদেশের জ্বালানি অবকাঠামোর সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার একটি কৌশলগত উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।